#প্রসংগ : যেই সমাজে বিয়ে কঠিন হয়, সেই সমাজে ব্যভিচার সস্তা হয়ে যায়!
==================================
"একটা ছেলে পাশ করে চাকরি করলেও হয়না। তাকে অনেএএএক টাকা ইনকাম করতে হবে।
এই ছেলের সম্ভাব্য বউ ততদিনে কলেজ ভার্সিটিতে ডজনখানেক রোমিওর প্রস্তাব
ফিরিয়ে দিয়ে বসে থাকে। এরপর ৩০বছর, ৩২ বছরে সবাই ছেলেটিকে বিয়ে দিতে অস্থির
হবে -- তখন তার চরিত্র কেমন আছে কে জানে, মেয়েটারটাও কে জানে। বিয়ের
পবিত্র আবেগ বহু আগেই তাদের হারিয়ে ক্ষয়ে যায় -- তা যে কেউ বুঝে। শারীরিক-মানসিক এই চাওয়া পূরণে তারা যে আগেই কোথাও সাময়িক ঢুঁ মারেনি তাইবা কে জানে?
মুর্খ অভিভাবকদের চোখে পড়েনা এখনকার ডিভোর্স রেট? চোখে পড়েনা সবখানে
অশ্লীলতা দেখে? তার সন্তানটি কী ভাবছে মনে করেন তারা? বিয়ের বয়সটা ছাত্র
জীবনে রাখলে কী সমস্যা হবে? দায়িত্ববোধ যার কখনই ছিলনা, তার কখনই হবেনা।
ছেলের ও মেয়ের বাবা মা আরো কিছুদিন (বিয়ের পরেও) ভরণপোষনের দায়িত্ব নিলে কি
সমস্যা? তাদের কি সন্তানের চরিত্রের চাইতে লোকে কি বলবে --সেটাই বড় বিষয়?
এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেক অল্পতেই শারীরিক ব্যাপারগুলো ভালো করে বুঝে
ফেলে। দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়ে সপাত্রে/সপাত্রীতে হস্তান্তর করে দিতে না
পারলে ভুক্তভোগী পরিবারের হর্তাকর্তারাই হবে -- হচ্ছে হরদম।"
আসমা বিনতে শামীম
****
:
এটি মাথার ওপর কেবল এক টুকরা কাপড় নয়, এটি জীবন
চলার একটি পথ কোন কোন বোন মাথা ঢেকে রাখাকেই হিজাব মনে করেন। তারা এটি
অনুধাবন করতে পারেন না যে, হিজাব পরিধানের জন্য মাথা ঢেকে রাখার বাইরেও
অনেক কিছু করার আছে। সত্যিকার অর্থে আপনি যদি চিন্তা করেন তাহলে বুঝবেন
হিজাব হলÑ আপনি যেভাবে কথা বলেন...আপনি কীভাবে হাটেন.. আপনি নিজেকে কীভাবে
পরিচালিত করেন। প্রকৃত অর্থে হিজাব হল একটি পরিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। এটি হল একটি জীবন বিধান।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘বলুন বিশ্বাসী নারীরা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং
নিজেদের গোপনাঙ্গ হেফাযত করবে এবং নিজেদের সৌন্দর্য (যিনাত) প্রকাশ করবে না
যা স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ হয়ে থাকে তা ব্যতীত এবং তারা তাদের মাথার কাপড়
বুক পর্যন্ত ঝুলিয়ে দেবে। তারা নিজেদের সৌন্দর্য স্বামী, অথবা পিতা, অথবা
স্বামীর পিতা (শ্বশুর), অথবা স্বামীর পুত্রগণ, অথবা আপন ভাই, অথবা তাদের
বোনদের পুত্রগণ, অথবা পরিবারভুক্ত নারীদের, অথবা অধীন দাসদের, অথবা ভৃত্যরা
যারা নারীদের প্রতি কোন যৌন আকর্ষণ বোধ করে না, অথবা ছোট শিশু যারা
নারীদেহ সম্পর্কে সচেতন নয় এবং তারা মাটিতে সজোড়ে পা ফেলবে না যাতে তাদের
পোশাকের গোপন সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এবং হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা
অনুশোচনা সহকারে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।’
(সূরা আন নূর : ৩১)। এখন আমরা উপরিউক্ত আয়াতের আলোকে হিজাব সম্পর্কে কিছু
সাধারণ জিজ্ঞাসার জবাব নিয়ে আলোচনা করব :
আমার মাথা তো ঢাকা আছেএর বেশি তোমরা কী চাও?
আপনি যদি আয়াতের নির্দেশের দিকে মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করেন তাহলে
দেখবেন, মাথার কাপড়কে (খুমুর) কাঁধ (যুয়ুর), এমনকি বুক পর্যন্ত টেনে দিতে
বলা হয়েছে। আরবিতে ‘খুমুর’ হল ‘খিমার’ শব্দের বহুবচন যা মাথা ঢাকার
কাপড়কে বুঝায়। ‘যুয়ুর’ হল আরবি শব্দ ‘যায়েব’-এর বহুবচন যা পোশাকের
কাঁধের ওপরের অংশকে বুঝায়। অথচ কোন কোন বোন মাথা একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে
মনে করেন তাদের হিজাব করা হয়ে গেছে, অথচ তাদের চুলের কিয়দংশ, বা মাথার
কিয়দংশ, অথবা পুরো গলা এবং বুক অনাবৃত। আসলে এরূপ আচরণ জাহেলী যুগের
নারীদের মধ্যে দেখা যেত। আল কুরতুবী বলেন, ‘সে সময় নারীরা তাদের মাথা
‘খিমার’ নামক একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখত এবং এর বর্ধিতাংশ পিঠের ওপর ফেলে
রাখত। ফলে তাদের গলা এবং বুকের ঊর্ধাংশ এবং কান খোলা থাকত। এ জন্য আল্লাহ
তাদেরকে ‘খিমার’ দিয়ে এ সকল অংশ ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং
আপনার স্কার্ফ অত্যন্ত ভালভাবে মুখম-লের চারপাশে ছড়িয়ে দিন যাতে পুরো
মাথা, গলা এবং বুক ঢেকে থাকে, আর সংক্ষিপ্ত মাথার পট্টি এবং প্যান্ট মাহরাম
আত্মীয়দের সামনে ব্যবহারের জন্য তুলে রাখুন।
দুঃখিত! টাইট জিন্স এবং সর্ট সার্ট কখনই নয়
আপনি কখনই টাইট জিন্স এবং শর্ট শার্টের সাথে মাথায় একটি পট্টি বেঁধে
ভাববেন না যে, আপনি হিজাব করেছেন। অথবা আপনি লম্বা এমন পোশাকও পরিধান করতে
পারবেন না যা টাইট এবং যা ভেদ করে শরীরের প্রতিটি অংগই বুঝা যায়। মহানবী
(সাঃ) বলেন, ‘আমার আখেরী উম্মতের মধ্যে এমন কিছু নারী থাকবে যারা কাপড়
পরিধান করেও উলঙ্গ থাকবে। মাথার ওপর তারা উটের কুঁজের মত কাপড় বেঁধে
রাখবে। তারা কখনই বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না, এমনকি তারা বেহেশতের
ঘ্রাণও পাবে না।’
স্বচ্ছ কাপড় পরিধান করলেও হিজাব হয় না
আপনি শিফন অথবা অনুরূপ পাতলা কাপড় আপনার মাথা ও শরীর ঢাকার জন্য পরিধান
করবেন না। শরীরের প্রতিটি অংশ এমনভাবে ঢেকে রাখতে হবে যাতে কাপড় ভেদ করে
চামড়ার রং দেখা না যায়। রাসূল (সাঃ) একবার একটি চিকন (স্বচ্ছ) কাপড়
উপহার পেলেন। তিনি কাপড়টি উসামা বিন যায়েদকে দান করলেন। উসামা বিন যায়েদ
এটি তার স্ত্রীকে দান করলেন। রাসূল (সাঃ) এটি জেনে উসামাকে বললেন : ‘তাকে
বল, এ কাপড়ের নিচে ‘ঘুল্লাহ’ ব্যবহার করতে যাতে কাপড় ভেদ করে তার
হাড়গোড়ের আকার দেখা না যায়।’ আরবিতে “ঘুল্লাহ’ এমন একটি মোটা কাপড়কে
বুঝায় যা পোশাকের নিচে পরিধান করা হয় যাতে শরীরের কাঠামো বুঝা না যায়।
হিজাব যেন কারও মনোযোগে আকর্ষণের কারণ না হয়
পোশাক এমন হবে না যাতে নারীর শারীরিক সৌন্দর্যের প্রতি কোন পুরুষের
দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। আল্লাহ তা’আলা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তারা যেন
তাদের সৌন্দর্য (যিনাত) প্রকাশ না করে।’ আজকাল এমনও দেখা যায়, হিজাব
ব্যবহারকারী কোন কোন নারীর দিকে পুরুষরা আকৃষ্ট হয় যা তারা হিজাব ব্যবহার
না করলেও হয়তো বা হত না। পোশাক এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে আপনাতেই
দৈহিক সৌন্দর্য (যিনাত) প্রকাশিত হয়ে পুরুষদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এটি
হিজাবের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। অথচ আল্লাহ তা’আলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন,
‘এবং গৃহে অবস্থান কর এবং নিজেকে জাহেলী যুগের নারীদের মত প্রকাশ কর না।’
(সূরা আল-আহযাব : ৩২)।
আওয়াজ করে এমন গহনা বা চকমক করে এমন ব্রেসলেট
শব্দ করে অথবা চকমক করে এমন কিছু তা সে গহনাই হোক বা ব্রেসলেট, ক্লিপ,
জুতা, পোশাকের সাথে ব্যবহৃত ছোট ছোট ঘণ্টা পরিধান হিজাবের পরিপন্থী। কারণ,
এটি পরিধানকারীর দিকে অন্যকে আকৃষ্ট করে। এ জন্যই আয়াতে নির্দেশ দেয়া
হয়েছে, ‘তারা সজোড়ে পদবিক্ষেপ করবে না যাতে তাদের পোশাকের গোপন সৌন্দর্য
প্রকাশ হয়ে পড়ে।
মাহরাম ব্যতীত অন্য কোন পুরুষের সাথে হাসি-ঠাট্টা, কৌতুক অথবা আড্ডা দেয়া
কোন কোন বোন এমন ধারণা করেন যে, যেহেতু তারা হিজাব পরিধান করেছেন সুতরাং
কোন পুরুষের (মাহরাম ব্যতীত) সাথে একত্রে বসা, কথা বলা, হাসি-ঠাট্টা, কৌতুক
করা দোষের কিছু নয়। এ ধারণা সঠিক নয় যদিও ঐ পুরুষ শিক্ষকও হয়ে থাকেন।
আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ, ‘কোমল স্বরে কথা বলবে না (মাহরাম ব্যতীত অন্য
পুরুষের সাথে) যাতে দুর্বল চিত্তের পুরুষের মনে আকাক্সক্ষা বা কামনার
উদ্রেক না হয়: বরং ভদ্রভাবে কথা বল।’ (সূরা আল আহযাব : ৩২) সুতরাং
সিনির্দিষ্ট প্রয়োজনে কোন পুরুষের সাথে কর্কশ কণ্ঠে নয়: বরং ভদ্রভাবে কথা
বলা যাবে।
কোন পুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত বা ভালভাবে দেখা হিজাব নয়
আল্লাহ তা’আলা আমাদের দৃষ্টিকে নি¤œমুখী (সংযত) রাখতে বলেছেন কেন? কারণ,
একবার দৃষ্টিপাত করে হাজার বার কথা বলার চেয়েও বেশি বুঝে নেয়া যায়।
সুতরাং যদিও আপনি যথাযথভাবে হিজাব করেছেন, তবু নিজের দৃষ্টিকে নি¤œমুখী
রাখুন, নিজের লজ্জাকে (হায়া) হেফাজত করুন এবং ফিতনা থেকে বাঁচুন।
ইন্টারনেটে চ্যাটিং বা ফোন করা হিজাবের মধ্যে পড়ে না
এমনটি যেন না হয় যে, ‘আমরা কেবলই বন্ধু।’ মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষের
সাথে ইন্টারনেট বা ফোনে কথা বলা যাবে না। এসবের ফলে অবৈধ সম্পর্ক,
অশ্লীলতা, ভগ্ন পরিবার, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং স্বামী বা স্ত্রীর অন্য
মহিলা বা পুরুষের সাথে পলায়ন-এ রকম বহু ঘটনার কথা শোনা যায়। এ জন্যই
ইসলামে যা কিছু অবৈধ কাজে ব্যবহার হয় অথবা উৎসাহিত করে তাও হারাম করা
হয়েছে। আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অশ্লীলতার ধারে-কাছেও যেও না,
এটি একটি গর্হিত কাজ এবং এটি জাহান্নামের দরজা খুলে দেয়।’ (সূরা ইসরা :
৩২)।
হাঁটা-চলার ক্ষেত্রেও সতর্ক হোন
মনে রাখবেন, আপনি কোন
প্রদর্শনীয় মডেল নন যিনি সর্বাধুনিক ডিজাইনে তৈরি পোশাক প্রদর্শনের জন্য
হেঁটে যান। ভদ্রভাবে এবং লজ্জাশীলতার সাথে হাঁটুন। আপনি সম্মান পাবেন।
মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘দু’ধরেনর দোযখী মানুষ আমি এখনও দেখিনি... সে সমস্ত
নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ, হাঁটাচলার ক্ষেত্রে উগ্রভাব।’
মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষের সাথে হাত না মেলানো-এটিও হিজাবের অংশ
মাহরাম ব্যতীত অন্য পুরুষের সাথে হাত মেলানো অনুমোদিত নয়। কারণ, রাসূল
(সাঃ) বলেন, ‘তোমাদের জন্য পরনারীকে স্পর্শ করার চাইতে মাথায় সুঁচের আঘাত
প্রাপ্তিও শ্রেয়।’ অমুসলিমদের সাথে হাত না মেলানো ভদ্রতার পর্যায়ে পড়ে
না। শুধু বুঝিয়ে বলুন, এটি আপনার ধর্মীয় আচার, তারা অবশ্যই বুঝবেন।
পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা থেকে দূরে থাকুন
কখনও কখনও দেখা যায়, বোনেরা মসজিদে প্রবেশের জন্য পুরুষদের জন্য
নির্দিষ্ট দরজা ব্যবহার করেন অথবা হলরুমে অলসভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন, অথবা
যেখানে অপ্রয়োজনে পুরষদের সাথে মেশার সুযোগ রয়েছে এমন জায়গায় অবস্থান
করেন। কেন এমন হয়? মসজিদে অথবা হলরুমে নারীদের জন্য কি আলাদা প্রবেশপথ
নেই? স্মরণ করুণ, আল্লাহ তা’আলা কেন হিজাবের প্রতি এত গুরুত্বারোপ করেছেন!
নারী পুরুষকে একে অপরের থেকে পৃথক রেখে তাদের মধ্যে কামনাজাত ফিতনা থেকে
দূরে রাখার জন্যই। রাসূল (সাঃ) একদা মসজিদ হতে বের হওয়ার সময়
নারী-পুরুষের এক সাথে জটলা দেখে বলেন, ‘তোমরা (নারীরা) রাস্তার কিনারা
দিয়ে হেঁটে যাও, রাস্তার মাঝখান দিয়ে হাঁটা তোমাদের জন্য শোভন নয়।’ এরপর
থেকে নারীরা রাস্তায় হাঁটার সময় এমনভাবে দেয়াল ঘেঁষে হাঁটতেন যে, তাদের
পোশাক অনেক সময় দেয়ালে আটকে যেত।
তোমার বোনের সৌন্দর্য গোপন করাও হিজাবের অন্তর্গত
কোন কোন বোন তাদের স্বামী বা ভাইদের সাথে অন্য নারীদের সৌন্দর্য নিয়ে
আলোচনা করেন যদিও তারা নিজেরা হিজাব করছেন। রাসূল (সাঃ) বলেন, ‘কোন নারীরই
এমন কোন নারীর সাথে মেশা উচিত নয় যার সৌন্দর্য প্রকাশিত এবং এ সৌন্দর্য
সম্পর্কে তার স্বামীকে বর্ণনা করা যেন তার স্বামী ঐ নারীকে দেখছে।’ আল্লাহ
তা’আলা তাঁর দ্বীনের সঠিক জ্ঞান দান করে আমাদের সুপথে পরিচালিত করুন। আমীন।